“গাঁজা খাওয়া উপকারী?” জানুন গাঁজা সম্পর্কে বিস্তারিত এখানে ক্লিক করে

 গাঁজা উপকারি না ক্ষতিকর— তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বিশ্বজুড়ে গাঁজা নিয়ে এ পর্যন্ত কম গবেষণা হয়নি! তবুও এ বিষয়ে মতভেদ থেকেই গিয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গাঁজা বা মারিজুয়ানার বেশ কয়েকটি ভেষজ গুণ রয়েছে। যেমন, গাঁজা শরীরের ব্যথা বোধ কমাতে সাহায্য করে। বছর খানেক আগে ফ্রান্সের বায়োমেডিকেল ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, গাঁজা থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ব্যথানাশক ওষুধ প্রস্তুত করা সম্ভব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, গাঁজা সেবনের ফলে ফুসফুসের ক্ষতির পরিমাণ তামাক পাতা দিয়ে ধূমপানের চেয়ে কম। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ গবেষণাতেই গাঁজার ক্ষতিকারক দিকগুলিই বেশি সামনে এসেছে। আর এগুলি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্পষ্ট কোনও ধারণা নেই। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক…

১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, গাঁজা সেবনের ফলে অণ্ডকোষে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

Loading...

২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণা উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। টানা ২০ বছর ধরে চলা গবেষণার পর তাঁদের গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, গাঁজা মানুষের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে দেয়। কারণ, গাঁজা মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। দীর্ঘদিন গাঁজা সেবনের অভ্যাস স্মৃতিশক্তিকে ক্রমশ দুর্বল করে দেয়। তবে এ নিয়ে মতান্তর রয়েছে।

৩) ‘আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন’-এর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গাঁজা সেবনের ফলে মানুষের শরীরের ধমনী ও শিরা অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিগারেটের মতো করে গাঁজা ধোঁয়া টানার ফলে মানুষের স্বভাবিক রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়।

৪) একদল মার্কিন গবেষকদের মতে, গাঁজা সেবনের ফলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়াও হৃত্‍স্পন্দনেগ গতি বৃদ্ধি, মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ বৃদ্ধির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।

৫) ‘আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন’-এর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গাঁজা সেবনের পর হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি সাধারণ অবস্থার তুলনায় চার গুণ বেড়ে যায়।

৬) অনেক মানুষের বিশ্বাস বা ধারণা, গাঁজা সেবনের ফলে মানুষের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে একেবারে ভুল প্রমাণিত করে নেদারল্যান্ডের একদল গবেষক দাবি করেছেন, গাঁজা মানুষের সৃজনশীল ক্ষমতাকে ক্রমশ অকেজো করে দেয়।

তথ্যসূত্রঃ জি ২৪ ঘন্টা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *