বার বার হস্তমৈথুন করেন?? জানেন কি করছেন, মেয়েরা পড়ুন আঁতকে উঠবেন এখানে-

সেক্স নিয়ে আমাদের সমাজে নানাবিধ ধারণা৷ কোনওটা ভুল৷ কোনওটা ঠিক৷ আসলে একটি বিষয় নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না-হলে যা হয় আর কী! এরকমই একটি চিঠি এসেছে আমাদের দফতরে৷ চিঠিটি লিখেছে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী৷ হুগলির আরামবাগ থেকে মৌমিতা সরকার (নাম পরিবর্তীত) লিখেছে, ‘আমি রোজ হস্তমৈথুন করি৷ দিনে অনেক বার৷ নেশার মতো হয়ে গিয়েছে৷ আমি জিমন্যাস্টিক শিখি৷ শুনেছি, মাস্টারবেশন খেলাধুলোয় পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে৷ আমার কি কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে? প্লিজ জানান৷’ মৌমিতাকে উত্তর দিয়েছেন কলকাতার এক নামী মনোবিদ৷

মনোবিদের উত্তর: প্রথমেই তোমার প্রশ্নকে দুটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া যাক৷ প্রথম হল, তুমি রোজ বারবার হস্তমৈথুন করছ৷ এটা ঠিক না ভুল৷ মনে ও শরীরে এর কোনও প্রভাব পড়ে কিনা৷ দ্বিতীয় হল, জিমন্যাস্টিক করার সঙ্গে বারবার হস্তমৈথুনে, মাঠে তোমার পারফরম্যান্সে কোনও প্রভাব পড়বে কিনা৷

Loading...

প্রথম প্রশ্নটির উত্তর হল, শারীরিক দিক থেকে যদি বিষয়টি দেখা যায়, হস্তমৈথুন শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়৷ সারাদিন বারবার হস্তমৈথুন করলেও শরীরে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না৷ সাইকোলজিক্যালি যদি বলা যায়, কম্পালসিভ হস্তমৈথুন মানসিক ভাবে কুপ্রভাব ফেলে৷ জীবনের একটা বড় অংশই যদি হস্তমৈথুন ও সেক্সুয়াল চিন্তা-ভাবনা হয়ে যায়, তা হলে চিন্তার৷ রিসাচ্রচ বলছে, বারবার হস্তমৈথুন হল, বিপজ্জনক সেক্স আসক্তির পূর্বাভাস৷ প্রবর্তী ক্ষেত্রে মানসিক ভাবে যা ক্ষতিকর৷ চিন্তাভাবনা নেগেটিভ হয়ে যায়৷ মনোবলে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে৷

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হল, খেলাধুলোর জগতে অনেকেরই ধারণা, হস্তমৈথুন পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে৷ জেতার মতো শারীরিক শক্তি কমিয়ে দেয়৷ সুইত্‍‌জারল্যান্ডে সম্প্রতি একটি রিসার্চ করা হয়৷ স্ট্রেস টেস্ট নামে ওই রিসার্চে সেক্সের ১০ ঘণ্টা পর
কয়েক জন প্লেয়ারকে মাঠে নামানো হয়৷ দেখা যায়, শারীরিক দক্ষতায় কোনও প্রভাবই পড়েনি৷

আসলে সেক্সের প্রভাব কখনওই কোনও খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সে বাধা হয় না৷ বাধা হয় মানসিক সমস্যায়৷ কোনও খেলোয়াড় যদি মাঠেও সেক্স নিয়েই চিন্তা করেন, তা হলে সেটা তাঁর মানসিক সমস্যা৷ শারীরিক নয়৷ পারফরম্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক দক্ষতায় কোনও প্রভাব পড়ে না৷

সুতরাং হস্তমৈথুনের সঙ্গে শারীরিক দক্ষতা বা অসুস্থতার সম্পর্ক নেই৷ তবে বেশি পরিমাণ সেক্সুয়াল চিন্তাভাবনা মনে প্রভাব ফেলে৷ পরবর্তী ক্ষেত্রে আসক্তি জন্মে যায়৷ মানসিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *