বড়োদের ও শিশুদের জন্য জোরপূর্বক সিগারেট ফোঁকার আজব উৎসব পালিত হয় এখানে, জানুন

ভাবুন তো আপনার সামনে দাঁড়িয়ে এক্তা বাচ্চা ছেলে সিগারেট ধরালো বা ভোঁস ভোঁস করে ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আপনার চোখের সামনে? কেমন অনুভূতি হবে? ব্যপারটি নিতান্ত দৃষ্টিকটু, তাই নয় কি? আপনার কাছে ব্যপারটা দৃষতিকটু মনে হলেও শীতের সিজনে পর্তুগালের একটি গ্রামে বাচ্চাদের সিগারেট খাওয়ানো হয় উৎসব করে। উৎসবের নাম “এপিফ্যানি”।

এটি খৃষ্টানদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যাকে দ্বিতীয় বড়োদিন হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তাদের মতে, এদিন প্রভু যিশু ধরাধামে ঈশ্বরের ছেলে এবং অলৌকিক পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজের পরিচয় নিয়ে জনসম্মুখে আত্মপ্রকাশ করেন।

ইউরোপের অন্যান্য দেশে এই উৎসব আর পাচটা উৎসবের মত উপহার বিনিময় আর সাতার প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকলেও উত্তর পর্তুগালের একটি গ্রাম এই এপিফ্যানি পালিত হয় বাচ্চাদের সিগারেট উৎসব। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের এক প্রকার ধরে ধরে জোর করে ধূমপানে বাধ্য করা হয়। একটু অদ্ভুত এই রীতি নিয়ে ‘ভ্যালি সালগুইয়েরো’ গ্রামের খ্রিষ্টান পুরোহিত প্রধান কার্লোস কাদওয়েজ বলেন, ‘কেবল যারা এখানে বসবাস করেন বহুকাল ধরে, পালন করেন উৎসব এবং থাকেন তারাই প্রকৃতপক্ষে এই ঐতিহ্যের মহত্ত্ব বুঝতে পারেন।’

Loading...

এমনকি কার্লোসের দশ বছরের মেয়ে লুসিয়াও প্রতি বছর তার সামনে বসে দুই-তিন প্যাকেট সিগারেট ফুঁকে দিয়ে দিবসটি পালন করে। কিন্তু এমন একটা উদ্ভট রীতির পেছনের রহস্যটা কী? জানা গেল সে ব্যাখ্যা দিতে মোটেই রাজি নন তিনি। এ নিয়ে কার্লোস বলেন, ‘আমি লোকজনকে আর বোঝাতে চাই না, আসলে বোঝানোর চেষ্টা করাটাই বৃথা। অনেকেই ভাবে আমরা বাবা-মা হিসেবে ভালো নই, কিংবা বোধ হয় মানুষ হিসেবেও ভালো নই।’

এই উৎসবের প্রধান রীতি অনুসারে জানুয়ারির প্রথম শনিবার এই উতসবে মা-বাবার গিফট করা সিগারেট খেয়ে উৎসব শুরু করে বাচ্চারা। এক্ষেত্রে পরপর একের পর এক ধূমপান করে বাচ্চারা। আর এটাকে খারাপ চোখে দেখেনও না সেখানকার স্থানীয়রা। গিলহারমিনা মাটিস সেই গ্রামের একজন দোকানদার। তিনি বলেন, ‘এই দিনে আমি আমার ছেলেমেয়েদের সিগারেট দিই। তবে আমি এটার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব না সেভাবে। তাছাড়া আমি তো এর ক্ষতি দেখছি না; ওরা সিগারেটে টান দেয় আর দ্রুত ধোঁয়া ছেড়ে দেয় তাই কেবল দিবসটিতেই তারা সিগারেট হাতে নেয়, অন্য কোনোদিন সিগারেট চায়ও না। আর যেহেতু এটা মাত্র এক দিনের ব্যাপার, তাই এ থেকে খারাপ কিছু হওয়ার কথা নয়।’

অনেক মনীষি তাদের বইতেও এই দিবসের কথা বলেছেন আগেও তবে প্রকৃত কারণ কেউ এখনও জানাতে পারেননি। এই উৎসবের ফলে ক্ষতি হচ্ছে কিশোর কিশোরীদের। অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে, অকালে ঝরে যাচ্ছে প্রাণ। সেটা দেখা যাচ্ছে অনেক শিশু অধিকার কর্মিরা এই নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *