প্রোফাইল ফটো দেখে প্রেম ১৫ বছরের কিশোর বিয়ে ৬০ বছরের প্রেমিকাকে

প্রোফাইল ফটোতে বয়স লুকোতে কত রঙ্গই তো দেখি সোশ্যাল মিডিয়ায়। নিজেকে তথাকথিত ফর্সা সুন্দরী প্রমাণে মরিয়া সোশ্যাল মিডিয়ার তরুণী থেকে বয়স্ক মহিলারা। সেই ফটো দেখে ধোকার চক্করে পড়তে দেখা যায় অহরহ। কিন্তু এবার ঘটলো এক অন্য ঘটনা, শেষে ল্কিনা বিয়ে মায়ের বয়সী মহিলাকে?
ফোনটা হঠাৎ চলে গিয়েছিল ভুল নম্বরে। অন্য প্রান্তে যিনি ফোনটা ধরেছিলেন, তাঁর গলার স্বরটা বেশ ভালোই লেগে গিয়েছিল বছর পনেরোর কিশোরের। এরপর কথা হতে থাকে দু-তিন দিন পর পর, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কথা বলার সময়, আস্তে আস্তে প্রেম। ফেসবুক থেকে ম্যাসেঞ্জার? ধীরে ধীরে সেটা হোয়াটসঅ্যাপে এগোয়, অন্যান্য তথ্য আদানপ্রদান শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফোনে অপরপ্রান্তে মিষ্টভাষী মহিলা কন্ঠের হঠাত প্রেমে পড়ে যায় বছর পনেরোর কিশোর। মহিলাও তাতে রাজি হন। তবে প্রেমের প্রস্তাব নয়, বাড়িতে এসে সরাসরি অভিভাবককে দিতে হবে বিয়ের প্রস্তাব- দেখা করার একটাই শর্ত দিয়েছিলেন ওই সুকন্ঠী মহিলা। প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া কিশোর তখন তাতেই রাজি হয়ে যায় একবাক্যে।

মোবাইলে মাস খানেক চুটিয়ে প্রেমের পর ‘তাঁর’ সঙ্গে দেখা করতে যায় সে। আর দেখা করতে গিয়েই বাধে বিপত্তি ! যেন বাজ ভেঙে পড়ল অসমের গোয়ালপাড়ার শিমলিতোলার হেপচাপাড়া গ্রামের ১৫ বছরের কিশোরের মাথায়, আকি কান্ড ঘটেছে তার জীবনে???

বরপেটা জেলার সুখারচর গ্রামে প্রেমিকার বাড়িতে পৌঁছতেই সে পায় উষ্ণ অভ্যর্থনা। জমিয়ে হয় পেটপুজোও। কিন্তু ততক্ষণেও প্রেমিকার দেখা পায়নি সে তখনো পর্যন্ত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথার বলার ফাঁকে কিশোরের চোখ খুঁজছিল সেই তার ‘তাঁকেই’। বাড়ছিল বুকের ধুকপুকানিও, প্রেমের ক্ষিদে। অতঃপর এক হাত ঘোমটা টেনে প্রেমিকা দেখা দিলেন তার সামনে লজ্জাবনত চিত্তে। কিন্তু তবুও মুখ দেখতে পায়নি কিশোর তার। ঘোমটা সরাতেই চক্ষু চড়কগাছ কিশোরের! প্রথমে তো বুঝতেই পারেনি, ‘ইনি প্রেমিকা না প্রেমিকার মা, নাকি মাসি নাকি দিদা!’ ভুল শুধরে যায় কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তার। আরে এ তো ৬০ বছরের এক ঠাকুমার বয়সী বৃদ্ধা! এরই সঙ্গে এতদিন কথা বলেছে সে, বিশ্বাসই করতে পারছিল না। পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি ছেলেটি।
প্রেমিকার পরিবার ধরেবেঁধে বিয়ে দিয়ে দেয় তাদের সাথে। মায়ের থেকেও বয়সে বড় মহিলাকে বউ করে বাড়িতে আনে এই কিশোর। কিন্তু পরিবার তো মানতে চায়নি। আর সেটাই তো স্বাভাবিক ব্যপার। জানা যায়, ওই মহিলার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে কয়েক বছর আগেই এক দূর্ঘটনায়। তারপরই পরিবারের তরফে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল তার।
সুখারচর গ্রামের টালির চালের ওই বাড়িতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই, সবাই দেখতে এসেছে কান্ড। আশেপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ আসছেন নতুন বউকে দেখতে। লজ্জায় মুখ লুকোচ্ছে পনেরোর কিশোর। এই বিয়ে কোনওভাবেই মেনে নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কিশোরের পরিবার।আর স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তে পুলিস। কিশোরের বয়স পনেরো বছর হওয়ায় আইনত সুবিধা পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে সকলের তরফে।
মিস্ত্রির কাজ করা ওই কিশোর আসতে কাজের স্বার্থেই বঙ্গাইগাঁওতে এক বন্ধুকে ফোন করতে গিয়েছিল, আর তাতেই জীবনে নেমে এল ঘোর অন্ধকার। ‘কোকিল কণ্ঠী’ যে আসলে তার দিদিমার বয়সী হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি সে।
আপনার অনেক বন্ধুও এমন প্রেম করে থাকেন তাই শেয়ার করে তাদের শুধরে দিন।
তথ্যসূত্রঃ ২৪ ঘন্টা

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *