বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে-বলছে সমীক্ষা

বর্তমান বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরে অত্যাচার দিনে দিনে বেড়েই চলেছে যে হারে তা মধ্যযুগের বর্বরতাকেও হার মানায়। হিন্দু নির্যাতন বন্ধের দাবিতে শুক্রবার ঢাকার প্রেসক্লাবে মানববন্ধনের আয়োজন করল বাংলাদেশের হিন্দু মহাজোট।  তাতে কি কি কর্মসূচী তারা পেশ করে তা একে একে তুলে ধরা হচ্ছে আমাদের পাতায়। জানুন সব কেমনভাবে রোজ অত্যাচারিত হচ্ছে বাংলাদেশের হিন্দুরা।

হিন্দু মহাজোটের দাবি, গত ১০ বছরে সারা দেশে হিন্দুদের উপরে নির্যাতনের ঘটনা মধ্যযুগকেও হার মানিয়েছে। একের পর এক হামলায় বিচার হচ্ছে না। ফলে হিন্দুদের উপরে নিপীড়ন-নির্যাতন বেড়েই চলেছে। তাদের এই একজোটের মানববন্ধনের উপরেও কিছু সংখ্যাগুরুর অত্যাচার হয়েছে বলেও দাবী করছে সংগঠন।

Loading...

সংগঠনের নেতাদের কথায় স্পষ্ট, ”প্রতিটি ঘটনাতে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের হাত । কিন্তু দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিরোধীদের উপরে। ফলে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা”। সূতরাং চলছে স্পষ্ট নোংরা রাজনীতি।

মহাজোটের মানব বন্ধন

হিন্দু জোটের বক্তব্য অনুসারে গত কয়েক দিনে খুলনা, যশোর, পিরোজপুর, গাজীপুর, দিনাজপুর, চাঁদপুর, নীলফামারী, শরিয়তপুর, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও কারমাইকেল কলেজ-সহ দেশের জায়গায় প্রতিমা ও বিগ্রহ ভাঙচুর, লুটতরাজ, কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। এছাড়া বহু ছোটখাটো ঝামেলা চলছেই।

হিন্দুদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। বগুড়া ও দিনাজপুরে হিন্দুদের জোর করে গোমাংস খাওয়ানো হয়েছে।  ধর্ম নিয়ে নোংরা রাজনীতি চলতেই আছে দেশজুড়ে।

হিন্দু মহাজোটের বক্তব্য, পিরোজপুরে মন্দির ভাঙচুর ও লুটতরাজ করা হয় পিরোজপুরে জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। প্রতিবাদ করলে তিন জনকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টাও করা হয়।

জমি দখলের জন্য সংখ্যালঘুদের বাড়ির উঠানে গরুর কাটা মাথা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ। অথচ বরাবরের মতো অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারেনি প্রশাসন। অপরাধী কে খুজেও পাচ্ছেন না পুলিশ অথচ  বুক ফুলিয়ে ঘুরছে  তারা। হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হাসিনা প্রশাসন ব্যর্থ বলে মনে করেন হিন্দু মহাজোট নেতারা।

মহাজোটের সদস্যরা বলেন, দেশে এক ত্রাসের রাজত্ব চলছে। সমস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কে কাজ করছে, শান্তিতে বসবাসের বিন্দুমাত্র পরিবেশ নাই। চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। অনেকেই পালিয়ে আসছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাজুড়ে।

তথ্যসূত্রঃ Zee 24 Ghanta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *